অভিজাত ঢাকা ক্লাবে মামলা কেন? আড়ালে কি নির্বাচন-সমীকরণ?
ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। গত ২৬ আগস্ট সেখানে হঠাৎ করেই দায়ের হলো একটি মামলা। আসামি অভিজাত ঢাকা ক্লাবের সভাপতি শামীম হোসেনসহ চার শীর্ষ কর্মকর্তা। অভিযোগ এক সাবেক কর্মচারীর পৌনে চার লাখ টাকার বকেয়া ও প্রাণনাশের হুমকি। আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ এক পাওনা আদায়ের মামলা। কিন্তু এই মামলার নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে কিছু অসঙ্গতি।
অসঙ্গতি নম্বর এক, আইন অনুযায়ী শ্রমিকের বেতন বা বকেয়া সংক্রান্ত যেকোনো বিরোধ নিষ্পত্তির একমাত্র আইনি এখতিয়ার শ্রম আদালতের। শ্রম পরিদর্শক নিজেই যেখানে বিষয়টি দেখেছেন, সেখানে শ্রম আদালত এড়িয়ে নিয়মিত ফৌজদারি আদালতে এই মামলা কেন? অভিযোগ আছে এই মামলার পেছনে কলকাঠি নাড়ছে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী আওয়ামীন্থী ঢাকাই পত্রিকার সম্পাদকদের একাংশের সংগঠন এডিটরস গিল্ড।
অসঙ্গতি নম্বর দুই, মামলার সময়কাল। জানুয়ারিতে বরখাস্ত হওয়া কর্মচারী দীর্ঘ আট মাস পর হঠাৎ আগস্টের শেষ সপ্তাহে এসে অতি-তৎপর হয়ে উঠলেন কেন? আর কার নির্দেশনায় নিয়মিত আদালতের জটিল প্রক্রিয়ায় সভাপতিসহ পুরো পরিচালনা পর্ষদকে একযোগে আসামি করা হলো? এই সাধারণ মামলার পেছনে কি শুধুই একজন কর্মচারীর দেনা-পাওনা, নাকি পরিচালিত হচ্ছে কোনো অদৃশ্য ইশারায়?
পর্দার আড়ালের আসল চিত্রটি স্পষ্ট হয় তখনই, যখন সামনে আসে ঢাকা ক্লাবের ক্যালেন্ডার। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ক্লাবের নতুন মেয়াদের নির্বাচন। আর এই নির্বাচনকে ঘিরেই শুরু হয়েছে এক গভীর চক্রান্ত।
ঢাকা ক্লাবের একটি সূত্র বলছে, এই মামলার আসল সূত্র লুকিয়ে আছে গত বছরের নির্বাচনে। ২০২৫ সালের জুনে সভাপতি পদে শামীম হোসেন ৬৮৩ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে পরাজিত করেছিলেন দৈনিক সংবাদের সম্পাদক আলতামাশ কবিরকে। সেই পরাজয়ের ক্ষোভ থেকেই কি তৈরি হলো এই আইনি ফাঁদ?
সূত্র নিশ্চিত করছে, আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে বর্তমান সফল নেতৃত্বকে সাধারণ সদস্যদের চোখে হেয় করতে এবং আইনি জটিলতায় ব্যস্ত রেখে মাঠ থেকে সরিয়ে দিতেই এই মামলাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কারণ এবারের নির্বাচনে আবারও প্রার্থী হবেন আলতামাশ কবির। একজন কর্মচারীর দেনা-পাওনার ইস্যুকে ঢাল বানিয়ে নেপথ্য থেকে কলকাঠি নাড়ছে সেই পরাজিত পক্ষটিই। যেকোনো উপায়ে নির্বাচনে জিতে ঢাকা ক্লাবের নেতৃত্ব দখলই তাদের লক্ষ্য।