পোশাক শ্রমিক আন্দোলনে আওয়ামী লীগের ইন্ধন ও অর্থায়ন, গ্রেপ্তার ১১ নেতাকর্মী

প্রকাশ: 02 Nov, 2026 | 07:18 AM
পোশাক শ্রমিক আন্দোলনে আওয়ামী লীগের ইন্ধন ও অর্থায়ন, গ্রেপ্তার ১১ নেতাকর্মী

রাজধানীর মিরপুর, সাভার ও পার্শ্ববর্তী জেলা গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের দাবিতে চলা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে নামলেও এই আন্দোলনে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সরাসরি ইন্ধন, অর্থায়ন এবং নাশকতার চেষ্টার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

আওয়ামী লীগের ইন্ধন, অর্থায়ন ও সরকারের প্রতিক্রিয়া

পোশাক খাতের চলমান অস্থিরতা নিয়ে সচিবালয়ে সরকারের নীতি নির্ধারক ও মন্ত্রীদের সাথে এক জরুরি বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৈঠক শেষে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, "শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী ইতোমধ্যে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এরপরও এই বিশৃঙ্খলা চালানো প্রমাণ করে যে আওয়ামী ফ্যাসিজমের লোকজনেরা ডিসেম্বরকে সামনে রেখে এসব ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে।" রাজনৈতিকভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করার কথা জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "নিরীহ গার্মেন্টস শ্রমিকদের ব্যবহার করে সীমান্তে ওপার থেকে ইন্ধন ও অর্থ জোগানো হচ্ছে, যাতে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করা যায়। সহিংস এই আন্দোলনে মুখোশধারীরা ঢুকে পড়েছে।"

নাশকতার চেষ্টায় আওয়ামী লীগের ১১ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

ঢাকার মিরপুরে আন্দোলন চলাকালে সহিংসতা, ভাঙচুর ও পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ১১ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ডিবির মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রাকিব খান নিশ্চিত করেছেন যে, আড়ালে থেকে সাধারণ শ্রমিকদের উসকানি প্রদান ও অর্থায়নের মাধ্যম লোক সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন:

শ্রমিক লীগ নেতা: মো. কামাল গাজী (সহ-সাধারণ সম্পাদক), যার বিরুদ্ধে অর্থ দিয়ে লোক সংগ্রহ ও ভাঙচুরের উসকানির অভিযোগ রয়েছে।

যুবলীগ কর্মী: মো. রমজান সরকার।

আওয়ামী লীগ কর্মী: মো. ওলিউল্লাহ অনিক (সক্রিয় সদস্য ও পিকেটার), আলিফ হোসেন ইমন, মো. নাহিদ হাসান, আরিফ আকন্দ, জায়েদ করিম রিয়াজ, মোয়াজ্জেম শাহরিয়া নিয়াজ, জুবায়েদ ইসলাম জিসান এবং মো. মাহিম মোল্লা।

এছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজবুল ইসলামসহ ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকর্মীর আন্দোলনের মাঠে থেকে স্লোগান দেওয়া ও উসকানি দেওয়ার প্রমাণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।