ইয়েমেনের হোদাইদাহ বন্দরে সৌদি আরবের হামলা, কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি হুথিদের!
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা আঞ্চলিক সংঘাতের রূপ নিতে থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রিত গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী হোদাইদাহে হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। হুথি নিয়ন্ত্রিত সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। শুক্রবার গভীর রাতে চালানো এই হামলার পর রিয়াদকে কঠোর ও মারাত্মক জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে গোষ্ঠীটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হোদাইদাহের কৌশলগত স্থাপনা ও টেলিযোগাযোগ কর্তৃপক্ষকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। পাশাপাশি কামারান দ্বীপেও বোমাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে, যেখানে অন্তত এক নারী আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, হোদাইদাহ বন্দরে জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা। তবে ইয়েমেনে মোতায়েনকৃত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে বন্দরে সরাসরি হামলার খবরটি অস্বীকার করা হয়েছে।
হুথিদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হোদাইদাহ শহরটি উত্তর ইয়েমেনের খাদ্য ও মানবিক সহায়তার প্রধান প্রাণকেন্দ্র। এখানে হামলা চালিয়ে রিয়াদ মূলত উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিল।
এদিকে সৌদি জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এই পরিস্থিতির জন্য হুথিদের 'বেপরোয়া কর্মকাণ্ড'কে দায়ী করেছেন। উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাই লোহিত সাগরে হুথিরা নৌঅবরোধ ঘোষণা করে এবং সম্প্রতি সৌদি আরবের কয়েকটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এর পেছনে সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি জোটের হামলার প্রতিক্রিয়া ছিল বলে দাবি হুথিদের। এই পাল্টাপাল্টি হামলায় ২০২২ সাল থেকে চলা অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি ও অঘোষিত ‘উত্তেজনা প্রশমন পর্ব’-এর সমাপ্তি ঘটল বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা।