এক মামলায় অব্যাহতি, আরেকটিতে জামিন পেলেন ট্রান্সকম সিইও সিমিন রহমানসহ অন্যরা
বোনের দায়ের করা দুটি মামলার মধ্যে একটিতে অব্যাহতি পেয়েছেন ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমানসহ পাঁচজন।
বোনের দায়ের করা দুটি মামলার মধ্যে একটিতে অব্যাহতি পেয়েছেন ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমানসহ পাঁচজন। অন্য মামলাটিতে ঢাকার আদালত তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেছেন।
স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) গ্রহণ করে আসামিদের অব্যাহতি দেন আদালত। বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এ মামলায় সিমিন রহমান ছাড়াও অব্যাহতি পেয়েছেন তাঁর মা ও ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান শাহনাজ রহমান, ছেলে যারেফ আয়াত হোসেন এবং ট্রান্সকম গ্রুপের পরিচালক মো. কামরুল হাসান ও মো. ফখরুজ্জামান ভুইয়া।
২০২৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সিমিন রহমানের বোন শাযরেহ হক গুলশান থানায় মামলাটি করেন। তদন্ত শেষে পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. তরীকুল ইসলাম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, পারিবারিক বিরোধের জেরে ডিড অব সেটেলমেন্টে জাল স্বাক্ষরের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
তদন্তে উঠে আসে, লতিফুর রহমান জীবদ্দশায় শেয়ার বণ্টন ও কোম্পানি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত একটি ডিড অব সেটেলমেন্ট করেছিলেন। সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষায় ওই ডিডে থাকা লতিফুর রহমানসহ বাদী শাযরেহ হক এবং তাঁর ভাই আরশাদ ওয়ালিউর রহমানের স্বাক্ষর সঠিক বলে প্রমাণিত হয়। ফলে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পক্ষে কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ না পাওয়ায় অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।
এ বিষয়ে সিমিন রহমানের আইনজীবী সিদ্দিক উল্ল্যাহ মিয়া বলেন, বাদী ডিড অব সেটেলমেন্ট অনুযায়ী সম্পত্তি বুঝে নিয়েছেন এবং তা আয়কর নথিতেও উল্লেখ করেছেন। ব্যবসার সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত তিনটি মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।
অন্য মামলায় জামিন
বোনের সঙ্গে শেয়ার হস্তান্তরে প্রতারণার অভিযোগে করা আরেক মামলায় সিমিন রহমানসহ পাঁচজন জামিন পেয়েছেন। এই মামলায় জামিনপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন শাহনাজ রহমান, মো. কামরুল হাসান, মো. মোসাদ্দেক এবং আবু ইউসুফ মো. সিদ্দিক।
এদিন আদালত ছয়জনের বিরুদ্ধে পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ তিন আসামির জামিন মঞ্জুর করেন। পরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে শাহনাজ রহমান ও সিমিন রহমান জামিন নেন।
পিবিআই পরিদর্শক সৈয়দ সাজেদুর রহমান চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি এ মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
উল্লেখ্য, সিমিন রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা চারটি মামলার মধ্যে তিনটিতেই ইতিমধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে এবং আদালতের আদেশে সেগুলো থেকে তিনি ও অন্য আসামিরা অব্যাহতি পেয়েছেন।