লিমনকে গুলি: জড়িত র্যাব সদস্যদের নাম-ঠিকানা চেয়েছে হাইকোর্ট
ঝালকাঠিতে কলেজছাত্র লিমন হোসেনকে গুলি করে পঙ্গু করার ঘটনায় জড়িত র্যাব সদস্যদের নাম ও বর্তমান অবস্থান শনাক্ত করে আদালতে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সেইসঙ্গে লিমনকে আটক, গুলি ও মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং তাকে কেন ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।আজ মঙ্গলবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ ও রুল জারি করেন। লিমনের করা একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেওয়া হয়...
ঝালকাঠিতে কলেজছাত্র লিমন হোসেনকে গুলি করে পঙ্গু করার ঘটনায় জড়িত র্যাব সদস্যদের নাম ও বর্তমান অবস্থান শনাক্ত করে আদালতে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সেইসঙ্গে লিমনকে আটক, গুলি ও মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং তাকে কেন ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ ও রুল জারি করেন। লিমনের করা একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেওয়া হয়।
লিমনের আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, 'আজকের আদেশ ১৫ বছরের ন্যায়বিচারের লড়াইয়ে একটি মাইলফলক। লিমন যখন শিশু ছিলেন, তখন তার ওপর এই ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন ঘটেছিল। আদালতের আদেশের মাধ্যমে ঘটনার সঠিক তদন্ত এবং ক্ষতিপূরণের পথ খুলল।'
তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছর ধরে সত্য ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। এর আগে হাইকোর্ট তদন্ত ও চিকিৎসার নির্দেশ দিলেও তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি। সারা হোসেন গণমাধ্যমের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, সাংবাদিকরাই প্রথম এই ঘটনা সামনে এনেছিলেন।
২০১১ সালের ২৩ মার্চ ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামে বাড়ির পাশের মাঠে গরু আনতে গেলে র্যাব-৮-এর একটি দল লিমনকে বাঁ পায়ে গুলি করে। এতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন র্যাবের তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) লুৎফর রহমান। পরে লিমনের গুলিবিদ্ধ পা কেটে ফেলতে হয়।
ঘটনার দিনই উল্টো লিমনের বিরুদ্ধে অস্ত্র রাখা, সরকারি কাজে বাধা এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দুটি মামলা করেন ডিএডি লুৎফর রহমান। ওই বছরের ১১ এপ্রিল লিমনের মা ছয় র্যাব সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করতে চাইলেও পুলিশ তা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে আদালতের নির্দেশে ২৬ এপ্রিল মামলাটি রেকর্ড করা হয়।