১০-দলীয় ঐক্য: ফাঁকা ৪৭ আসনের বেশিরভাগ যেতে পারে জামায়াতের ঝুলিতে
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (আইএবি) জোট ছাড়ার ঘোষণার পর জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১০-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে শুরু হয়েছে নতুন করে আসন ভাগাভাগির তোড়জোড়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রচারণা শুরুর আগেই এই পুনর্বণ্টন চূড়ান্ত করতে চাইছে জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব।এই পরিবর্তনের ফলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আসন সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।জোটসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জন্য রাখা ৪৭টি আসনের মধ্যে অন্তত ৩৭টি নিজেদের দখলে নিতে পারে জামায়াত। বা...
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (আইএবি) জোট ছাড়ার ঘোষণার পর জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১০-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে শুরু হয়েছে নতুন করে আসন ভাগাভাগির তোড়জোড়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রচারণা শুরুর আগেই এই পুনর্বণ্টন চূড়ান্ত করতে চাইছে জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব।
এই পরিবর্তনের ফলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আসন সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
জোটসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জন্য রাখা ৪৭টি আসনের মধ্যে অন্তত ৩৭টি নিজেদের দখলে নিতে পারে জামায়াত। বাকি আসনগুলোর বেশির ভাগ ভাগাভাগি হতে পারে এনসিপি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মধ্যে। তবে কয়েকটি ছোট দলও অতিরিক্ত আসনের দাবি জানিয়েছে।
এ ছাড়া একাধিক দল অনড় অবস্থানে থাকায় সেসব আসন আপাতত ফাঁকা রাখার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
এসব বিষয় চূড়ান্ত করতে জামায়াত, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও এনসিপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার সম্পাদক এহসানুল মাহবুব জুবায়ের দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, প্রথমে আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা করার জন্য গঠিত লিয়াজোঁ কমিটি একটি প্রস্তাব তৈরি করবে। শীর্ষ নেতারা সেটি অনুমোদন দিলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট ছাড়ার ঘোষণা দিলেও তাদের জন্য দরজা এখনো খোলা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাজধানীর মগবাজারে দলীয় কার্যালয়ে গতকাল শনিবার সাংবাদিকদের জুবায়ের বলেন, আমরা সব সময় বলেছি—আমাদের দরজা সবার জন্য খোলা। সেই অবস্থান এখনো বহাল আছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১০-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের শীর্ষ নেতারা সংবাদ সম্মেলনে জানান, ২৫৩টি আসনের আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত হয়েছে এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জন্য ৪৭টি আসন ফাঁকা রাখা হয়েছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অনুপস্থিতিতে ঘোষিত ওই আসন সমঝোতায় জামায়াত একাই পেয়েছে ১৭৯টি আসন। জোটসঙ্গীদের মধ্যে এনসিপি পেয়েছে ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি, খেলাফত মজলিস ১০টি, এলডিপি সাতটি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) তিনটি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি দুটি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি দুটি আসন।
এদিকে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) জানিয়েছে, নির্বাচনে তারা প্রার্থী দেবে না। নির্বাচনের পর 'যথাযথ মূল্যায়নের' আশ্বাস পাওয়ায় তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে দল দুটি।
শুক্রবার পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটি জানায়, জামায়াত তাদের উপেক্ষা ও অসম্মান করায় তারা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে।
জোটের ভেতরে ঐকমত্যে পৌঁছানো না যাওয়ায় এখন ফাঁকা আসনগুলোতে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, সব দলকে নিয়ে দীর্ঘ আলোচনায় বসার এখন আর সময় নেই। শীর্ষ নেতৃত্বের একটি অংশ বসেই বিষয়টি চূড়ান্ত করবে। মূলত এই ৪৭টি আসন জামায়াত, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও এনসিপির মধ্যে বণ্টন হবে। এর বড় অংশ যাবে জামায়াতের ঝুলিতে।
কতটি আসন কে পেতে পারে—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনো কিছুচূড়ান্ত হয়নি। প্রাথমিক আলোচনায় জামায়াত ৩৭ থেকে ৩৮টি আসন পেতে পারে। বাকিগুলো এনসিপি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মধ্যে ভাগ হবে।
এনসিপির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, তারা অন্তত আরও ১০টি আসন দাবি করেছেন।
এনসিপির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, এনসিপির জন্য ৩০টি আসন ইতোমধ্যে নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে ২৭টি প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। এখন আমরা আরও কয়েকটি আসন পাওয়ার চেষ্টা করছি।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ বলেন, ২০টি আসনের বাইরে আমরা আরও পাঁচ থেকে ছয়টি আসন পেতে পারি।
তিনি জানান, ফরিদপুর-৪, কিশোরগঞ্জ-১ ও সুনামগঞ্জ-৩ আসনে জোটের একাধিক দল প্রার্থী দিয়েছে। এই আসনগুলো ফাঁকা রাখা হতে পারে। ফেব্রুয়ারির শুরুতে যে দল এগিয়ে থাকবে, অন্যরা তাকে সমর্থন দেবে।
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের জানান, প্রাথমিকভাবে পাওয়া ১০টি আসনের বাইরে তারা আরও চার থেকে পাঁচটি আসন চাইছেন।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তার দল তিনটি আসন পেয়েছে। গতকাল তিনি বলেন, আমরা জামায়াতকে আরও পাঁচটি আসন দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি।