ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা তার নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় জেলা প্রশাসনের এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

আজ শনিবার বিকেলে রুমিন ফারহানার বক্তব্য বন্ধ ও মাইক্রোফোন ধরে রাখা এক যুবককে গ্রেপ্তারের নির্দেশকে কেন্দ্র করে সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সমাবেশ করা হচ্ছিল। নিয়ম অনুযায়ী সেটি বন্ধ করা হয়েছে। পরে আয়োজককে জরিমানা করা হয়। ঘটনাস্থল ত্যাগের সময় ওই প্রার্থী আমার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।'

সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুবকর সরকার বলেন, 'নির্বাচনী আচরণবিধির ১৮ ধারায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে।'

এ ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

সেখানে দেখা যায়, রুমিন ফারহানা সভাস্থলে পৌঁছালে সেখানে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান উপস্থিত হন। তিনি নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে রুমিন ফারহানাকে বক্তব্য বন্ধ করে মঞ্চ থেকে নেমে যেতে বলেন। এ সময় মাইক্রোফোন ধরে রাখা এক যুবককে আটক করতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করে মঞ্চ থেকে নামার সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান রুমিন ফারহানা।

তিনি বলেন, 'এক্সকিউজ মি স্যার… দিস ইজ দ্য লাস্ট টাইম আই ওয়ার্নিং ইউ। আই উইল নট লিসেন টু দিস।'

ভিডিওতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বলতে শোনা যায়, আচরণবিধি লঙ্ঘন হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সময় আশপাশের কয়েকজন অভিযোগ করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা 'বৃদ্ধাঙ্গুল' দেখালেও প্রশাসন ব্যবস্থা নেয় না।

এর প্রতিক্রিয়ায় রুমিন ফারহানাও বৃদ্ধাঙ্গুল উঁচিয়ে বলেন, 'এই রকম দেখায় আপনাদেরকে। প্রশাসনে বসে আছেন, খোঁজ নেন।'

রুমিন আরও বলেন, 'আজকে শুনছি। আঙুল তুলে বলে গেলাম, ভবিষ্যতে আর শুনব না। আমি যদি না বলি, এখান থেকে বের হতে পারবেন না। বের হতে পারবেন না স্যার, মাথায় রাখবেন। আমি রুমিন ফারহানা, কোনো দল লাগে না আমার।'

এর আগে, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত রুমিন ফারহানার সমর্থক মো. জুয়েলকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।