মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে মাছের মেলায় প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে বিপন্ন প্রজাতির বাঘাইড় মাছ। অথচ বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও সুরক্ষা) আইন অনুযায়ী বাঘাইড় মাছ শিকার, কেনা-বেচা বা সংরক্ষণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

প্রতিবছর পৌষসংক্রান্তি ও নবান্ন উৎসব উপলক্ষে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুরে ও হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পইল ইউনিয়নের নতুনবাজার মাঠে বসে বৃহত্তম মাছ মেলা। 

শেরপুরের মেলায় গত ১৩ জানুয়ারি উৎসবমুখর পরিবেশে বিশালাকৃতির বাঘাইড় মাছ প্রকাশ্যে বিক্রি করতে দেখা যায়। তবে বাঘাইড় বিক্রি বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে বাঘাইড় মাছ বিক্রি এক ধরনের ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের নজরদারি ও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে চলছে এই অবৈধ বাণিজ্য। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনসচেতনতামূলক প্রচারণা এবং মেলার ভেতরে মাইকিংয়ের মাধ্যমে এ অবৈধ বাণিজ্য অনেকাংশে বন্ধ করা সম্ভব।

বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী বাঘাইড় মাছ ধরা ও বিক্রি দণ্ডনীয় অপরাধ। এই অপরাধে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। 

স্থানীয় সূত্রে জানায়, সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে শতাধিক ব্যবসায়ী মেলায় মাছ নিয়ে আসেন। বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে কেনা-বেচা। নিষিদ্ধ বাঘাইড়ের পাশাপাশি বোয়াল, চিতল, আইড়, গজার, রুই, কাতলা, মৃগেল ও বাউশসহ নানা প্রজাতির বড় মাছ বিক্রি হয়।

শেরপুর মেলায় বাঘাইর মাছ নিয়ে আসা ব্যবসায়ী আরবেশ মিয়া জানান, কিশোরগঞ্জের মিঠামইন এলাকার মেঘনা নদী থেকে মাছটি ধরা হয়েছে। ৮৫ কেজির বেশি ওজনের বাঘাইড়টির দাম হাঁকা হয়েছে তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা। 

তিনি বলেন, নিলামের মাধ্যমে চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণ করা হবে।

এই মাছ ধরা ও বিক্রি যে নিষিদ্ধ, তা জানেন কি না—এমন প্রশ্নে আরবেশ বলেন, জানি, তবে মেলায় সবকিছুই বৈধ। এই মাছগুলোই তো মেলার প্রধান আকর্ষণ।

বাহুবল উপজেলার আরেক ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ জানান, তিনি ১০০ কেজি ওজনের একটি বাঘাইর মাছ নিয়ে হবিগঞ্জের মেলায় বিক্রি করতে এসেছেন। মাছটির দাম ধরা হয়েছে দুই লাখ টাকা। এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দর উঠেছে ৪০ হাজার টাকা। 

তিনি জানান, ৮০ হাজার টাকা পেলে মাছটি বিক্রি করবেন। তার দোকানে ২০ থেকে ২৫ কেজি ওজনের শতাধিক বড় মাছও রয়েছে।

আব্দুল আজিজ আরও বলেন, বাঘাইড়টি কুশিয়ারা নদী থেকে ধরা হয়েছে। সিলেট থেকে কিনে মেলায় আনা হয়েছে। 

তবে এটি ধরা ও বিক্রি যে নিষিদ্ধ, তা তার জানা নেই বলে দাবি করেন।

খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার তোফাজ্জল সোহেল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, বাঘাইড় বা স্থানীয়ভাবে পরিচিত 'বাঘ মাছ' ক্রয়-বিক্রি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

তিনি আরও বলেন, বিপন্ন হওয়া সত্ত্বেও এ মাছ বাজার ও মেলায় প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। কাগজে-কলমেই আইন সীমাবদ্ধ থাকছে। এভাবে চলতে থাকলে একদিন প্রজাতিটি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম ডেইলি স্টারকে বলেন, বাঘাইড় মাছ বিক্রির বিষয়টি আমার জানা ছিল না। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।